অভিজিৎ সাহা: ঝাড়গ্রামের এক সাধারণ ফুটপাথের ঝালমুড়ির দোকান হঠাৎই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে। রবিবার প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র আচমকা সেখানে নেমে ঝালমুড়ি খাওয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বিক্রম সাউয়ের দোকান। তবে এই আকস্মিক জনপ্রিয়তা যেমন ব্যবসা বাড়িয়েছে, তেমনই বাড়িয়েছে চাপ এবং বিতর্ক।
সোমবার সকাল থেকেই দোকানে ভিড় জমাতে শুরু করেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তিতে বিরক্ত বিক্রমের স্পষ্ট জবাব— “সবটাই সাজানো কি না, সেটা আমি কী করে বলব?” তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী আসার কয়েক মিনিট আগে এক ব্যক্তি এসে মুড়ি কিনেছিলেন, তারপরেই হঠাৎ নিরাপত্তা ব্যারিকেড খোলা হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী দোকানে আসেন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee মন্তব্য করেছেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং “সবটাই নাটক”। তাঁর অভিযোগ, দোকানে আগে থেকেই ক্যামেরা বসানো ছিল।তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রম। তাঁর কথায়, “দোকানে আগে থেকে কোনও ক্যামেরা লাগানো ছিল না। প্রধানমন্ত্রী আসার পরেই ক্যামেরাম্যান ঢুকেছিলেন।” পাশাপাশি তিনি জানান, দোকানটি প্রতিদিনই একইভাবে সাজানো থাকে, বিশেষ কোনও প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।ঘটনার পর থেকেই সাধারণ মানুষের ভিড় বেড়েছে দোকানে। অনেকে শুধু ঝালমুড়ি কিনতেই নয়, বিক্রমের সঙ্গে ছবি তুলতেও আসছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক ভিডিও ও রিলস।বিক্রম সাউয়ের পরিবার মূলত বিহারের গয়ার বাসিন্দা। প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁর বাবা ঝাড়গ্রামে এসে এই ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে পরিবারের সকলেই এই ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।একটি সাধারণ ঝালমুড়ির দোকান ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।