অভিজিৎ সাহা: ভোটগ্রহণের মতোই ভোটগণনা পর্বেও কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না—স্পষ্ট বার্তা দিল Election Commission of India। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, গণনার কাজে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি চাকরি পর্যন্ত চলে যেতে পারে।সূত্রের খবর, এসআইআর থেকে ভোটগ্রহণ—প্রতিটি ধাপেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হয়নি কমিশন। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের দিন প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসার পরই কড়া মনোভাবের ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার গণনাকেন্দ্রগুলিতে আরও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গণনা প্রক্রিয়ায় আনা হচ্ছে একাধিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা। পরিচয় যাচাইয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি টেবিলে কাউন্টিং সুপারভাইজার বা অ্যাসিস্ট্যান্টদের মধ্যে অন্তত একজনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ পদ্ধতিতে কর্মী বাছাই করা হবে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষ করে মোবাইল নম্বর, গোপন রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও থাকছে কড়াকড়ি। গণনাকেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন বিশেষ পুলিশ অবজার্ভাররা।এদিকে কাউন্টিং সুপারভাইজার পদে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল TMC। তবে প্রথমে হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট—দুই ক্ষেত্রেই স্বস্তি পায়নি তারা।Justice Joymalya Bagchi পর্যবেক্ষণে জানান, নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্র বা রাজ্য—উভয় স্তরের কর্মীদেরই নিয়োগ করা সম্ভব। সেই জায়গায় কমিশন যদি শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের বেছে নেয়, তা নিয়মবিরুদ্ধ নয়। যদিও তৃণমূল এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছে এবং জানিয়েছে, তাদের আবেদন সরাসরি খারিজ হয়নি।সব মিলিয়ে, ভোটগণনার আগে কমিশনের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে—স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কোনও রকম শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।
ভোটগণনায় গাফিলতি মানেই চাকরি খোয়া যাওয়ার ঝুঁকি! কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের!