পরিচারিকার কাজ থেকে মন্ত্রিসভায়, সংগ্রামের পথ পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে আউশগ্রামের কলিতা মাঝি!
জীবনের কঠিন লড়াইকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছেন আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাঝি। শৈশব থেকেই অভাব-অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠা কলিতা ভেবেছিলেন, বিয়ের পর হয়তো জীবনে স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু বাস্তব ছিল ভিন্ন। আর্থিক সংকট যেন পিছু ছাড়েনি। শ্বশুরবাড়িতেও ছিল অভাবের ছাপ। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে শুরু করেন পরিচারিকার কাজ।ভোরবেলা নিজের সংসারের কাজ সেরে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে যেতেন। সেখান থেকে ফিরে সামান্য বিশ্রামের পর আবার বেরিয়ে পড়তেন এলাকার মানুষের খোঁজখবর নিতে। কারও কোনও সমস্যা হলে যতট
নিজস্ব সংবাদদাতা : জীবনের কঠিন লড়াইকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছেন আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাঝি। শৈশব থেকেই অভাব-অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠা কলিতা ভেবেছিলেন, বিয়ের পর হয়তো জীবনে স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু বাস্তব ছিল ভিন্ন। আর্থিক সংকট যেন পিছু ছাড়েনি। শ্বশুরবাড়িতেও ছিল অভাবের ছাপ। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে শুরু করেন পরিচারিকার কাজ।ভোরবেলা নিজের সংসারের কাজ সেরে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে যেতেন। সেখান থেকে ফিরে সামান্য বিশ্রামের পর আবার বেরিয়ে পড়তেন এলাকার মানুষের খোঁজখবর নিতে। কারও কোনও সমস্যা হলে যতটা সম্ভব পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। মানুষের জন্য কাজ করতে করতেই ধীরে ধীরে যুক্ত হন বিজেপির সঙ্গে। নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে যাতায়াত শুরু করেন এমন এক সময়ে, যখন অনেকেই প্রকাশ্যে বিজেপির নাম উচ্চারণ করতেও দ্বিধাবোধ করতেন।কলিতা মাঝি বলেন, “কখনও বিধায়ক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতিতে আসিনি। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছাই আমাকে এই পথে এনেছে। ২০২১ সালে প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। পরাজয়ের পরও ভেঙে পড়িনি। পরিচারিকার কাজ যেমন ছাড়িনি, তেমন মানুষের পাশে থাকা থেকেও সরে যাইনি। আবার সুযোগ পেলাম, মানুষের আশীর্বাদে বিধায়ক হলাম।”এবার মন্ত্রিত্বের খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত কলিতা। ফোনে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি মন্ত্রী হচ্ছি? সত্যিই? আবার শপথ নিতে হবে?” আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, রবিবার সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁকে কলকাতায় পৌঁছতে বলা হয়েছে। দলের এই স্বীকৃতি তাঁর কাছে অকল্পনীয় সম্মান।কলিতার কথায়, “মন্ত্রী হলেও আমি আগের মতোই মানুষের মধ্যে থাকব। তাঁদের সমস্যার কথা শুনব, বিপদে পাশে দাঁড়াব। আমার প্রথম লক্ষ্য গুসকরায় একটি আধুনিক ও উন্নত মানের হাসপাতাল গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন আমি পূরণ করতেই চাই।”সংগ্রাম, পরিশ্রম ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন আউশগ্রামের কলিতা মাঝি। পরিচারিকার কাজ থেকে মন্ত্রিসভার আসন— তাঁর এই যাত্রা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প।
সম্পর্কিত খবর
পূর্ব বর্ধমান
বর্ধমানে কুনুর নদীতে ভেসে উঠছে রুই-কাতলা-মৃগেল, মাছ ধরতে হুড়োহুড়ি!
কুনুর নদীর জলে দূষণের জেরে টন টন মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান এলাকায়। নদীর জলে রাসায়নিক দূষণের আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কোনও শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য নদীর জলে মিশে যাওয়ার ফলেই এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে। তবে দূষণের প্রকৃত উৎস ও মাছের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।নদীতে মাছ মরে ভেসে ওঠার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের গ্রামের বহু মানুষ জাল, বালতি ও ঘুণি
পূর্ব বর্ধমান
অবসর তাঁকে থামাতে পারেনি, প্রতিদিন স্কুলে ছুটে আসেন গঙ্গাধরবাবু—বেতনের টাকা দিয়ে গড়েছেন পড়ুয়াদের স্বপ্ন!
চাকরি শেষ হয়েছে, কিন্তু দায়িত্ববোধ শেষ হয়নি। অবসর নেওয়ার পরেও প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলে আসেন। ক্লাস নেন, পড়ুয়াদের সঙ্গে সময় কাটান, তাঁদের পড়াশোনার খোঁজ নেন। শিক্ষকতার প্রতি এমনই অদম্য টান পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার কুতুবপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক গঙ্গাধর পাল-র।২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অবসর নিয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপর থেকে প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক একদিনের জন্যও ছিন্ন হয়নি। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হয়েও নিয়মিত ক্লাস নিয়ে চলেছেন তিনি।তবে গঙ্গাধর
পশ্চিমবঙ্গ
দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে বৃষ্টির দাপট, উত্তরবঙ্গে কমলা সতর্কতা!
দক্ষিণবঙ্গে ফের সক্রিয় হয়েছে বর্ষা। রবিবার দুপুর গড়াতেই কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। তবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় সকাল থেকেই চলছে মুষলধারে বর্ষণ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মঙ্গলবার থেকে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। সোমবার দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্