নিজস্ব সংবাদদাতা: শনিবার নিখোঁজ হওয়ার পর রবিবার বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় এক নাবালিকার দেহ। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তের পাশাপাশি পরিবারের সব দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে, নাবালিকার বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন বিরোধী দলের একাধিক প্রতিনিধিও। দেহ উদ্ধারের পর রবিবার রাতেই নাবালিকার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা ফরেনসিক পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে যে ব্যক্তির সঙ্গে নাবালিকাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল, তাঁকে গ্রেফতারের পর ধাপে ধাপে আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।সূত্রের খবর, প্রাথমিক ময়নাতদন্তে নাবালিকার মাথায় ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মাথা, গলা ও ঘাড়ে একাধিক গুরুতর ক্ষতের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যৌনাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন মিলেছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যা যৌন নির্যাতনের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।এছাড়া প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নাবালিকার ফুসফুসে জল পাওয়া গেছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, সাধারণভাবে মৃত্যুর পর কোনও দেহ জলে ফেলে দিলে ফুসফুসে জল প্রবেশ করে না। জীবিত অবস্থায় জলে পড়লে বা ডুবে গেলে তবেই এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, নাবালিকাকে শারীরিক নির্যাতনের পর জীবিত অবস্থায় জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কি না।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট, ডিজিটাল ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।