Skip to content

গণনাকেন্দ্রে ‘জিরো ব্ল্যাকআউট’ টার্গেট! ৭০০০ অতিরিক্ত কর্মী, ডাবল জেনারেটরে সুরক্ষিত ভোটগণনা!

অভিজিৎ সাহা: রাজ্যের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণের দিনে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। ভোটগণনা নির্বিঘ্ন রাখতে বিদ্যুৎ সরবরাহে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিল West Bengal State Electricity Distribution Company Limited। সকাল ৮টা থেকে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হয়েছে, তার পর সাড়ে ৮টা থেকে ইভিএম গণনা—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এক সেকেন্ডের বিদ্যুৎ বিভ্রাটও যাতে না ঘটে, সেদিকেই কড়া নজর।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বাড়তি সুরক্ষা বলয় :
রাজ্যজুড়ে সাব-স্টেশন ও কাস্টমার কেয়ার ইউনিটে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৭০০০ অতিরিক্ত কর্মী। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাড়তি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও। আবহাওয়া বা প্রযুক্তিগত সমস্যায় কোথাও বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটলেও যাতে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করা যায়, তার জন্য রাখা হয়েছে ব্যাকআপ পরিকল্পনা।জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে রাখা হয়েছে ডিজেলচালিত জেনারেটর ও ইনভার্টার। বিশেষ ‘ডাবল লেভেল’ জেনারেটর ব্যবস্থার ফলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে—অর্থাৎ ব্ল্যাকআউটের সুযোগই নেই।

কী বললেন সিইও :
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে আগাম বৈঠক হয়েছে WBSEDCL, CESC এবং Damodar Valley Corporation-এর সঙ্গে। সমস্ত সম্ভাব্য পরিস্থিতি মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।ইন্টারনেট পরিষেবাতেও বাড়তি সতর্কতা—ফল প্রকাশে যাতে কোনও প্রযুক্তিগত বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য বাড়ানো হয়েছে ব্যান্ডউইথ।

রাজনৈতিক মহলেও সতর্কতা চরমে :
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় এজেন্টদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—গণনাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ যেন এক মুহূর্তের জন্যও না যায়, সে বিষয়ে কড়া নজর রাখতে হবে।
অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নির্দেশে বিভিন্ন এলাকায় ট্রান্সফর্মার ঘিরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নজরে আজকের দিন
গোটা রাজ্যের চোখ এখন গণনার দিকে। প্রশাসন, বিদ্যুৎ সংস্থা এবং রাজনৈতিক দল—সবাই সর্বোচ্চ সতর্ক। এখন প্রশ্ন একটাই—এই বিশাল প্রস্তুতি কতটা সফল হবে? নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে কি গণনা, নাকি মাঝপথে কোনও অপ্রত্যাশিত বিপত্তি?
আজকের দিনেই মিলবে সেই উত্তর।

Latest