হাতিহালকায় সংঘর্ষের পরও কাটেনি আতঙ্ক, কার্যত বন্ধ দোকানপাট—ঘরছাড়া বহু পরিবার!
নিজস্ব সংবাদদাতা : গত শনিবার মেদিনীপুর সদর ব্লকের হাতিহালকায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে দু’জনের মৃত্যুর পরও থামেনি উত্তেজনা। ঘটনার পর থেকে এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত। কার্যত অঘোষিত বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হাতিহালকায়। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাটও প্রায় জনশূন্য।সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত এই এলাকায় প্রায় ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ পরিবারের বসবাস। সংঘর্ষের পর পুলিশি তল্লাশি ও গ্রেফতারের আশঙ্কায় বহু পরিবার বাড়িঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।ঘরছাড়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পাথারা ঐতিহাসিক মন্দির সংরক্ষণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ৭৪ বছর বয়সি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ‘কবীর সম্মান’ পুরস্কার প্রার্থী ইয়াসিন পাঠানও। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনিও আপাতত বাড়ির বাইরে রয়েছেন।

সোমবার তিনি বাড়িতে ফেরার অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেন।ইয়াসিন পাঠানের অভিযোগ, সংঘর্ষের পর আতঙ্কে বহু গ্রামবাসী বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘‘উভয় পক্ষই পুলিশের কাছে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম জানিয়েছে। তা সত্ত্বেও নিরীহ গ্রামবাসীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’’যদিও পুলিশের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিকের বক্তব্য, তল্লাশি অভিযান শুধুমাত্র সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যেই চালানো হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেও দাবি পুলিশের।ইয়াসিনের দাবি, তিনি অসুস্থ থাকায় বাড়ি ছাড়ার সময় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কিংবা টাকা-পয়সাও সঙ্গে নিতে পারেননি। এর আগেও তাঁর বাড়িতে পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছিল বলে অভিযোগ করে তিনি জানান, সেই কারণেই এবার আর ঝুঁকি নিতে চাননি।সংঘর্ষের আঁচ পড়েছে পড়ুয়াদের উপরেও। হাতিহালকা এলাকার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন পড়ুয়া চুয়াডাঙ্গা হাই স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু সিনহা জানিয়েছেন, সোমবার সব পরীক্ষার্থীই পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা দিয়েছে।উল্লেখ্য, শনিবার হাতিহালকায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে শামশের বিশ্বাস ও তাজু খান নামে দু’জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। পুলিশের তল্লাশি ও গ্রেফতারি অভিযান ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।