গবেষণাগার থেকে ফোক মিউজিয়াম, ‘ওপেন ডে’-তে বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরল ১১ স্কুলের পড়ুয়ারা
নিজস্ব সংবাদদাতা :বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে স্কুলপড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক পরিকাঠামোর সঙ্গে পরিচয় করাতে অনুষ্ঠিত হল ‘University Open Day–2026’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিউবেশন অ্যান্ড স্টার্ট-আপ সেন্টার ও IQAC-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মেদিনীপুর শহরের ১১টি বিদ্যালয়ের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা অংশ নেয়।সকাল ১০টায় বি.এন. শাসমল হলে কিশলয়ে জলসিঞ্চনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে পড়ুয়াদের বিজ্ঞান, সাহিত্য, ইতিহাস ও গবেষণার সঙ্গে সরাসরি পরিচয় করানোই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পরেশচন্দ্র জানা, ইনকিউবেশন সেন্টারের অধিকর্তা অধ্যাপক ব্রজগোপাল বাগ, IQAC-এর অধিকর্তা অধ্যাপক মধুমঙ্গল পাল, জাতীয় সেবা প্রকল্পের অধিকর্তা অধ্যাপক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকরা।

এদিনের কর্মসূচিতে অংশ নেয় সরস্বতী বিদ্যা মন্দির, মেদিনীপুর কলেজিয়েট গার্লস হাই স্কুল, কর্নেলগোলা শ্রী নারায়ণ বিদ্যাভবন বয়েজ হাই স্কুল, বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতন, হবিবপুর সরস্বতী বিদ্যা মন্দির, কুইকোটা শঙ্করী হাই স্কুল, নির্মল হৃদয় আশ্রম গার্লস হাই স্কুল, মিশন গার্লস হাই স্কুল, অলিগঞ্জ আরআরবি বিদ্যালয়, বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ গার্লস হাই স্কুল এবং মেদিনীপুর কলেজিয়েট বয়েজ হাই স্কুল-এর পড়ুয়ারা ও গাইড শিক্ষকরা।

পরে পড়ুয়াদের পাঁচটি দলে ভাগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বোটানি, জুলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ইলেকট্রনিক্স, ফোক মিউজিয়াম, বিদ্যাসাগর মিউজিয়াম, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, কম্পিউটার সেন্টার, ইনকিউবেশন সেন্টার-সহ মোট ১৭টি বিভাগ ও কেন্দ্র ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা গবেষণা ও বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে পড়ুয়াদের সহজ ভাষায় ধারণা দেন।

আধুনিক গবেষণাগার, প্রযুক্তি ও ফোক মিউজিয়ামের সংগ্রহ দেখে পড়ুয়াদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ দেখা যায়। ইনকিউবেশন সেন্টারে নতুন ধারণাকে কীভাবে স্টার্ট-আপে রূপ দেওয়া যায়, সে বিষয়েও তারা প্রাথমিক ধারণা পায়।দিনের শেষে অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের হাতে শংসাপত্র ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। উপাচার্য সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তায় শিক্ষা যে শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, তা উল্লেখ করে তাঁদের সামগ্রিক বিকাশে সহ-পাঠ্যক্রমিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন।