নতুন আঙ্গিকে ‘সারথি’, সাইকেলের মান ও নিরাপত্তায় জোর—বাংলায় তৈরি হবে সাইকেল কারখানার পরিকল্পনা!
নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার প্রকল্প এবার নতুন নামে, নতুন আঙ্গিকে পথচলা শুরু করল। ‘সবুজ সাথী’-র পরিবর্তে ‘সারথি’ নামে এই প্রকল্পের নতুন পর্বের সূচনা হল মঙ্গলবার। হাওড়ার ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের পড়ুয়াদের হাতে সাইকেল তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে প্রকল্পের নতুন দিকগুলি তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।রাজ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ‘সারথি’ প্রকল্পে শুধুমাত্র সাইকেল বিতরণের উপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে না, সাইকেলের গুণগত মান, কারিগরি পরীক্ষা এবং সড়ক নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সরবরাহ করা সাইকেলগুলির মান যাচাইয়ের পরেই তা পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অতীতে সাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ অন্য রাজ্য থেকে এনে পশ্চিমবঙ্গে সংযোজন করে পড়ুয়াদের মধ্যে বিতরণ করা হত। সেই ব্যবস্থায় অনিয়ম ও গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল বলেও তিনি দাবি করেন। নতুন সরকারের আমলে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সাইকেলের মানের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেই সাইকেল তৈরির পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সাইকেল প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে জমি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে সাইকেল কেনার জন্য চুক্তি করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। এর ফলে রাজ্যে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ‘সারথি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২.৫৯ লক্ষ নবম শ্রেণির পড়ুয়াকে সাইকেল দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট যোগ্য পড়ুয়াদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে হাজার হাজার স্কুল, ব্লক এবং পুরসভা যুক্ত রয়েছে।প্রকল্পের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াতেও এবার ডিজিটাল নজরদারির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পড়ুয়াদের তথ্য যাচাই, সাইকেল বিতরণের রেকর্ড সংরক্ষণ এবং বিতরণের পর সংশ্লিষ্ট তথ্য আপলোড করার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।এদিকে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণির পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদেরও ‘সারথি’ প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। ফলে আগামী দিনে প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়তে পারে।অনুষ্ঠান শেষে পড়ুয়াদের সঙ্গে একই সারিতে বসে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পড়ুয়াদের সঙ্গে একান্তে সময় কাটিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা ও নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী।

নতুন নামে ‘সারথি’-র পথচলা শুরু হলেও পড়ুয়াদের স্কুলে যাতায়াত সহজ করা এবং শিক্ষার সঙ্গে তাঁদের সংযোগ আরও মজবুত করাই এই সাইকেল বিতরণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে থাকছে। নতুন ব্যবস্থায় সাইকেলের মান, নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।