মাঝ আকাশে ককপিটে হামলা! ১৪ হাজার ফুট নেমে গেল বিমান, যাত্রীদের তৎপরতায় রক্ষা ১৭৪ প্রাণ!

মাঝ আকাশে ককপিটে হামলা! ১৪ হাজার ফুট নেমে গেল বিমান, যাত্রীদের তৎপরতায় রক্ষা ১৭৪ প্রাণ!

নিজস্ব সংবাদদাতা : দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে মাঝ আকাশে ঘটে গেল ভয়াবহ ঘটনা। ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষের পর বিমানটি আচমকা বিপুল উচ্চতা হারাতে শুরু করে। জরুরি সংকেত পাঠানো হলে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত যাত্রী, ক্রু এবং বিমানে থাকা অতিরিক্ত পাইলটদের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকের Prince Sultan bin Abdulaziz International Airport-এ নিরাপদে অবতরণ করে। ৩০ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটি প্রথমে ৭৭০০ জরুরি সংকেত পাঠায়। কিছুক্ষণ পর সেটি ৭৫০০ কোডে পরিবর্তিত হয়, যা বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের আন্তর্জাতিক সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে ফের ৭৭০০ কোডে ফিরে যায় বিমানটি। এর মধ্যেই বিমানটির উচ্চতায় দেখা যায় ভয়াবহ পরিবর্তন। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। এরপর বিমানটি গতিপথ বদলে সৌদি আরবের দিকে ফিরে যায় এবং তাবুকে জরুরি অবতরণের অনুমতি চায়। ঘটনার জেরে ইসরায়েলে সাময়িকভাবে ব্যাপক নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয় এবং বিমানটিকে নজরদারির জন্য যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ছিনতাই হিসেবে দেখা হলেও পরে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, মূল ঘটনা ঘটেছিল ককপিটের ভিতরে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ওমানি নাগরিক সহ-পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এই দাবির ভিত্তিতে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টা হিসেবেও তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সঠিক উদ্দেশ্য এবং ককপিটে সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, তা এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিষয়। ফ্লাইদুবাইও জানিয়েছে, ফ্লাইট ডেকে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল এবং এর কারণ ও উদ্দেশ্য তদন্তাধীন। এই ঘটনায় ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের নামও সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি হামলায় আহত হন। গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যেও ককপিটে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হওয়ায় যাত্রী ও ক্রুরা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারেন। এরপর বিমানে থাকা অন্য পাইলটরাও বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সহযোগিতা করেন।অবশেষে তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। ক্যাপ্টেন ও সহ-পাইলট—দু’জনকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। সৌদি আরবের National Transport Safety Center (NTSC) ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রমাণ ও তথ্য সংগ্রহ করছে।ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে বিমান ধ্বংসের সম্ভাব্য প্রচেষ্টা এবং সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্ত করলেও, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেই ব্যাখ্যাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ফ্লাইদুবাইও ঘটনার কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আগাম কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর আহ্বান জানিয়েছে।মাঝ আকাশে ককপিটের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও যাত্রী, কেবিন ক্রু এবং অতিরিক্ত পাইলটদের দ্রুত হস্তক্ষেপে বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করে