বন্দুক ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার পথে তিন মাওবাদী, পুলিশের হাতে AK-47-সহ জমা বিপুল অস্ত্র!
নিজস্ব সংবাদদাতা : দীর্ঘদিন জঙ্গলমহল ও ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র কার্যকলাপে যুক্ত থাকার পর অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতা-নেত্রী। বাঁকুড়া পুলিশ লাইনের কনফারেন্স হলে রাজ্য পুলিশের এডিজি (পশ্চিমাঞ্চল) আনন্দ কুমারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন জবা মাহাতো, নয়নতারা সাহু এবং রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে শচীন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জবা মাহাতো ও নয়নতারা সাহু ছিলেন মাওবাদী সংগঠনের জোনাল কমিটির সদস্যা। অন্যদিকে রামপ্রসাদ মান্ডি ছিলেন বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা রিজিওনাল কমিটির সদস্য। পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূমের কোলহান এলাকাতেও তাঁদের সক্রিয়তা ছিল।

আত্মসমর্পণের সময় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় একে-৪৭ এবং দু’টি ইনসাস রাইফেল। সঙ্গে জমা পড়ে ১০টি ম্যাগাজিন ও ১৫৪ রাউন্ড কার্তুজ। পুলিশের দাবি, তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।তিনজনের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন থানায় মিলিয়ে ৭৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। খুনের অভিযোগের পাশাপাশি অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক আইন এবং ইউএপিএ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।আত্মসমর্পণের পর তিনজনই জানিয়েছেন, একসময় এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও বঞ্চনার কথা সামনে রেখে তাঁরা সশস্ত্র আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে সেই পথ থেকে সরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তাঁরা।

রামপ্রসাদ মান্ডির বক্তব্য, যে কারণে একসময় বন্দুক হাতে নিয়েছিলেন, এখন সেই পরিস্থিতিতে বন্দুক হাতে রাখার প্রয়োজন দেখছেন না।রাজ্য পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের সরকারি সারেন্ডার-কাম-রিহ্যাবিলিটেশন নীতির আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তবে আত্মসমর্পণ করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়া বহাল থাকবে।সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় মাওবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান এবং গ্রেফতারির পাশাপাশি একাধিক আত্মসমর্পণের ঘটনা সামনে এসেছে। তারই মধ্যে বাঁকুড়ায় একসঙ্গে তিন গুরুত্বপূর্ণ মাওবাদী নেতা-নেত্রীর অস্ত্র সমর্পণ জঙ্গলমহলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর, এই আত্মসমর্পণের পর মাওবাদী সংগঠনের স্থানীয় কার্যকলাপে কী ধরনের প্রভাব পড়ে।